চকলেট খাওয়ানের কথা বলে শিশুটিকে যৌন নিপিড়ন করা হয়

../news_img/223488_161.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: গাজীপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বাবা-মেয়ের আত্মহত্যার মূল আসামি ফারুককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। শুক্রবার রাতে ঢাকার সাভারের ইসলামনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি করেছে র‌্যাব। গ্রেফতার হওয়া ফারুক চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাইকেলে করে নিয়ে হজরত আলীর মেয়েশিশু আয়েশাকে যৌন নিপীড়ন করেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

আজ শনিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।

ফারুক গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাকে নিয়ে এ মামলায় তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর ছিটপাড়ার বাসিন্দা হজরত আলী শিশু মেয়ে আয়েশাকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পরদিন হজরত আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে রেলওয়ের কমলাপুর থানায় মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব কর্মকর্তা সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, গত ২৯ এপ্রিল গাজীপুরের বহুল আলোচিত বাবা ও মেয়ের ট্রেনের নিচে পড়ে আত্মাহুতি সব গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ ঘটনায় কমলাপুর রেলওয়ে থানায় আত্মহত্যার প্ররোচণায় একটি মামলা করা হয়। এই ঘটনার পর র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সাভারের ইসলামনগর এলাকা থেকে আসামি ফারুককে গ্রেফতর করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার করা স্বীকার করেছেন।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানান, মাস দুয়েক আগে তিনি শিশু আয়েশাকে মজা বা চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখান। এরপর সাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এরপর তিনি ও তার সংঘবদ্ধ চক্র আয়েশার পরিবারকে নানাভাবে অত্যাচার ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেন। তিনি ও তার লোকজন আয়েশার বাবা হজরত আলীর একটি গরু চুরি করে বিক্রি করে দেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরো জানান, আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকে ফারুক আত্মগোপন করেন। প্রথমে তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গিয়ে লুকান। এরপর ফরিদপুরের আটরশিতে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে আত্মগোপন করেন। সেখানে বেশ কিছুদিন থাকার পর সর্বশেষ সাভারের ইসলামনগর এলাকায় লুকিয়ে থাকেন। র‌্যাব তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে সেখান থেকে ফারুককে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ফারুকের দাবি তিনি শিশু আয়েশাকে ধর্ষণ করেননি। তিনি মেয়েটিকে সাইকেলে করে নিয়ে যাওয়ার সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এতে আয়েশা রেগে গেলে তাকে সাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে চলে যান।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর সাংবাদিকদের জানান, মামলার সাত আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফারুককে গ্রেফতারের আগে মামলার অপর দুই আসামি শ্রীপুরের গোসিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল হোসেনকে শ্রীপুর থেকে এবং নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ঝাঝর গ্রাম থেকে বোরহান উদ্দিনকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।