যে কারণে কবর থেকে তোলা হলো ইফফেতের লাশ

../news_img/53864mm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::তিন মাস পর কবর থেকে তোলা হলো ইফফেত আরার (২৬) লাশ। ভাইয়ের করা হত্যা মামলায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি আজ বৃহস্পতিবার সকালে তোলা হয়েছে।

ইফফেত আরার স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের রায়াপুর গ্রামের ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি এরশাদের সঙ্গে ইফফেতের বিয়ে হয়। এরশাদের দাবি অনুসারে কয়েক দফায় সাত লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। এরপর আরও যৌতুকের জন্য ইফফেতকে চাপ দেন এরশাদ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১০ এপ্রিল রাতে এরশাদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইফফেতকে পিটিয়ে জখম করেন। এতে তিনি জ্ঞান হারান। পরে মুঠোফোনে তাঁর ভাই মনিরুজ্জামানকে খবর দেওয়া হয়। ওই দিন রাতেই ইফফেতকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ এপ্রিল ভোরে ইফফেত মারা যান। পরে বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে লাশ দাফন করা হয়।

এই ঘটনার প্রায় দুই মাস পর গত ১৯ জুন ভাই মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। রাজশাহী মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে এরশাদ আলী, তাঁর ভাই জাহিদ হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে জাহিদ হোসেন নামের এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলা কেন এত দেরিতে করলেন জানতে চাইলেন মনিরুজ্জামান বলেন, বোনকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাঁরা আগে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, তাঁর বোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। চাকরিতে যোগদানের আগেই হত্যার শিকার হয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরভ কুমার চন্দ্র বলেন, গত রোববার আদালত থেকে লাশ উত্তোলনের অনুমতি পাওয়া গেছে। আজ সকাল নয়টার দিকে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বাগমারার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলমগীর হোসেনের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।