সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত :রাজনীতির হাইপার রিয়েলিস্ট

../news_img/45719 mri nu.jpg

অধ্যক্ষ মো.আব্দুল মতিন ::
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেকে যিনি প্রজ্ঞা, মানবতাবোধ দিয়ে হাইপার রিয়েলিস্ট শিল্পী নাতান ওয়ালশ,ফ্রানকো ক্লান,এড ওয়ারডপাউলজি,জাস্পার জোন্সএর হাইপার রিয়েলিজম চিন্তার  মতো  রাজনীতির তিক্ত  অভিজ্ঞার পেন্সিল দিয়ে নিজেকে একে যে চিত্র কর্মের নাম নিজেই দিয়েছেন সেই নামটিই সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত |

হাওড়ের প্রতিকুল ডেউ,হিজল-বরুন-করচের সৌন্দয্যের ভিড়ে বিষাক্ত সাপের ছোবল ডিঙিয়ে, রাজনীতির দুবৃত্তায়নের বিরোদ্ধে সোচ্চার  থেকে,ঘাতকদের প্রাণ সংহার থেকে বারবার ফিরে, এলিটিস্টদের ভীড়ে থেকেও যিনি আমৃত্য পপুলিস্ট নেতা,দেশ ই যার কাছে রাজনীতির মূল, গ্রামের মেটো পথ-খেতের আল বেয়ে যিনি আমৃত্যু একাই লড়ে রাজপথ আর রাজধানী দখল করে হয়েছেন জাতীয়নেতা ;সারা বাংলার সবার প্রিয় নেতা ও সুরঞ্জিত দা |

১৯৩৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ মহকুমার দিরাইয়ের আনোয়ার পুর গ্রামে শ্রীমতি সুমতিবালা সেন গুপ্তের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশু পৃথিবীতে ভুমিষ্ট হওয়ার পর বাবা দেখেন নি। তার জন্মের তিন মাস পূর্বেই বাবা দেবেন্দ্র নাথ সেন গুপ্ত গত হয়েছিলেন।মা তার আদরের সন্তানের নাম রেখেছিলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। যখন তিনি ১১ বছরের শিশু তখন হয়েছেন মাতৃহারা।

দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিকুলেশন পাশ করে সিলেট এমসি কলেজে ভর্তি হন। স্কুল জীবন থেকেই অভিনয়ের নেশা ছিল তার।  বাম রাজনীতির পুরোধা প্রসুন কান্তি বরুন রায়ের সান্নিধ্যে ছাত্র ইউনিয়ের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরেন।  প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর করেন | মেধা আর প্রজ্ঞায় স্থান করে নেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে। ১৯৬২ সালের হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সেন গুপ্ত  ১৯৬৯ সালের গনভ্যুত্থানে রেখেছিলেন অনন্য ভুমিকা। ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি পাস করে  ১৯৭০ সালে তিনি ব্যারিস্টারি পড়তে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। তৎকালিন পাকিস্থান সরকার সাধারণ নির্বাচন ঘোষনা করলে প্রসুন কান্তি বরুন রায়ের চিঠি পেয়ে তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন এবং ন্যাপ থেকে কুঁড়েঘর মার্কা নিয়ে দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাক লাগিয়ে দেন। তার নির্বাচনি এলাকাবাসী(দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ) তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গিয়ে থাকে নির্বাচিত হন |  মহান মুক্তিযুদ্ধকালিন তিনি ৫নং সেক্টরের বালাট সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে করেছেন যুদ্ধ।

১৯৭২ সালে গণপরিষদ গঠিত হলে তিনি ছিলেন একমাত্র বিরোধী দলিয় সদস্য। তার গঠনমুলক সমালোচনা আর বিভিন্ন তির্যক মন্তব্যের কারনে  বঙ্গবন্ধু থাকে খুব ভালবাসতেন। একমাত্র বিরোধী দলিয় সদস্য হিসেবে ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মুলস্তম্ভ সংবিধান প্রণয়ন কমিটর সদস্য। শুধু তাই নয় অস্ট্রেলিয়ার সংবিধান রচনাকারদের একজনও তিনি।

১৯৭০, ১৯৮৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ সালে অনুস্টিত জাতীয় সংসদ  নির্বাচনে অংশ নিয়ে  তিনি এমপি নির্বাচিত হন। ৮ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত স্বাধীন বাংলাদেশের সকল সোনালী অর্জনের সফল অংশিদার।

প্রিয়  দাদা, আপনার চন্দন দাহে আমরা ভক্ত শুভাকাঙ্ক্ষী,কর্মী,সরকার দলীয় -বিরুধী দলীয় সবাই সত্যিই দহন হয়েছি | আমৃত্যু আপনি আমাদের মাঝে  সত্যিই বেচে থাকবেন | ভালো  থাকুন অপারে|