গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট পৌরসভার উন্নয়নে ১৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প

../news_img/Jossna-apa.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট পৌরসভায় পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন উন্নয়নে ১৬৫ কোটি ১৯ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণ শেষে মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। অনুমোদন পেলে ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সমগ্র দেশে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্ধিত জনসংখ্যার কারণে পরিবেশগত স্যানিটেশন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিস্কাশনের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিরাপদ পানি সরবরাহের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের ভিশন-২০২১ এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুরাতন মধুমতি নদীর তীরে গোপালগঞ্জ জেলা অবস্থিত। জেলার প্রাণকেন্দ্র গোপালগঞ্জ পৌরসভার আয়তন ১৩ দশমিক ৮২ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার। চাহিদার তুলনায় এ শহরে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। গোপালগঞ্জ পৌরসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জিমনেশিয়াম, মেডিকেল কলেজ, পাওয়ার ষ্টেশন, সুইমিং পুল, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, ডেন্টাল কলেজ, পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট ইত্যাদি স্থাপনা এবং মাষ্টার প্ল্যান মোতাবেক এ শহরের আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে এ শহরের পানির মোট চাহিদা ১০ এমএলডি। পৌরসভার মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয় ৪ এমএলডি। গোপালগঞ্জ শহরে বর্তমানে নিরাপদ পানি চাহিদার মোট ৪০ শতাংশ পানি পাইপ নেটওয়ার্কের আওতায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ শহরে নিরাপদ পানি সরবরাহের কভারেজ হবে ৯০ শতাংশ।

অপরদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুরাতন মধুমতি ও ভৈরব নদীর তীরে বাগেরহাট জেলা অবস্থিত। জেলার প্রাণকেন্দ্র বাগেরহাট পৌরসভার আয়তন ৮ দশমিক ৬৩০ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ৫৫ লাখ। চাহিদার তুলনায় এ শহরে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। এ শহরের বিদ্যমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ১৯৭৬ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল, যা পর্যাপ্ত পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এ শহরের পানির মোট চাহিদা ৬ দশমিক ৬ এমএলডি। পৌরসভার মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয় ১ দশমিক ৪ এমএলডি। অর্থাৎ বাগেরহাট শহরে বর্তমানে নিরাপদ পানি চাহিদার মোট ২৫ শতাংশ পানি পাইপড নেটওয়ার্কের আওতায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই বাগেরহাট পৌরসভাকেও প্রকল্পের অন্তভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ শহরে নিরাপদ পানি সরবরাহের কভারেজ হবে ৮০ শতাংশ।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম গুলো হচ্ছে, ২২ দশমিক ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ, একটি জলাধার নির্মাণ ৫ লাখ ঘনমিটার, ২টি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, ৫টি সিকিউরিটি ওয়ালসহ পাম্প হাউজ নির্মাণ, ৩টি ওভারহেড ট্যাংক, ২ হাজার টি পানির বাড়ীতে সংযোগ, ১৩৮ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যসের পাইপ লাইন স্থাপন, ১০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, ৩২ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ এবং একটি যানবাহন ক্রয় ,জীপ ইত্যাদি।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং পরিবেশগত পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার আওতা বৃদ্ধি করে গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট পৌরসভার জনগণের স্থাস্থ্য ও জীবনমান উন্নত করা সম্ভব হবে তাই প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য।